পুলিশ আপনার-আমার শত্রু নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আজ কেন সাধারণ মানুষের একটি অংশের পুলিশের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে? কেন জনগণের সেবায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের অনেক সময় ঘৃণা, ক্ষোভ কিংবা অবিশ্বাসের মুখোমুখি হতে হচ্ছে? একটু ভাবুন তো—প্রখর রোদ, ঝড়-বৃষ্টি, কনকনে শীত কিংবা গভীর রাত; যখন আমরা নিরাপদে ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছি, তখনও অসংখ্য পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন আমাদের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। কোনো দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, অপরাধ কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে সবার আগে দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসা বাহিনীগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশের দায়িত্ব সহজ নয়। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, তীব্র যানজট, প্রতিকূল আবহাওয়া, সামাজিক চাপ এবং নানা ঝুঁকি উপেক্ষা করেই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক পুলিশ সদস্য জীবনও হারিয়েছেন। তাই কোনো একটি ঘটনার কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীকে একই দৃষ্টিতে দেখা ন্যায়সংগত নয়। তবে এটিও সত্য—কিছু অসাধু ও অপেশাদার পুলিশ সদস্যের অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা অসদাচরণের কারণে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব অন্যায়ের কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। বরং অপরাধ বা অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনসম্মত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানোই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। কোনো পুলিশ সদস্যের আচরণে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করতে পারেন। প্রয়োজন হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও জানানো উচিত। অন্যায়ের প্রতিবাদ অবশ্যই করতে হবে—তবে সেই প্রতিবাদ হতে হবে শান্তিপূর্ণ, তথ্যভিত্তিক ও আইনসম্মত। পুলিশকে গালি দেওয়া, অপমান করা, হামলা করা, প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে, কোনো পুলিশ সদস্যের অন্যায় আচরণকেও প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, পুলিশ সদস্যরাও আমাদেরই সমাজের মানুষ। তারা কারও ভাই, কারও বোন, কারও সন্তান, কারও বাবা কিংবা স্বজন। দায়িত্বের পোশাকটি তাদের আলাদা করে, কিন্তু মানবিক পরিচয়ে তারা আমাদেরই একজন। আমরা চাই—বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠুক। আর সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে পুলিশের পেশাদারত্ব, জবাবদিহি ও মানবিক আচরণের পাশাপাশি জনগণেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। আসুন, আমরা ঘৃণা নয়—আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলি। পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতাই পারে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে। পুলিশ আপনার-আমার শত্রু নয়; পুলিশ জনগণের সেবায় নিয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। অন্যায় হলে প্রতিবাদ করব, অপরাধ হলে আইনের আশ্রয় নেব—কিন্তু ঘৃণা, সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া থেকে বিরত থাকব। আজ থেকেই হোক পরিবর্তনের শুরু। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।