ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, সাংবাদিকদের বিষয়ে মন্তব্যও অসাবধানতাবশত।
27, October, 2026, 12:42:44:AM
নিজস্ব প্রতিবেদক।
।‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও শিরোনাম নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপির দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি নিরসনে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ব্যাখ্যা অনুযায়ী,আইজিপি মাদক কারবারি,সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজ ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন।বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার অর্থে তিনি শব্দটি ব্যবহার করেননি বলে দাবি করেছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। পুলিশের ওপর হামলা: ১০ মাসে নিহত ৪, আহত ৩৭০ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের বক্তব্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার,জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করে। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের কখনো অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী কিংবা আইন অমান্যকারী ব্যক্তিদের সরাসরি প্রতিরোধ ও আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।এসব হামলায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের দাবি,দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধী গ্রেপ্তার,অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আত্মরক্ষার অধিকার আছে,তবে আইনের সীমার মধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ব্যাখ্যায় আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।এ প্রসঙ্গে দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১-এর উল্লেখ করেছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে—আত্মরক্ষার আইনগত অধিকার এবং বিচারবহির্ভূত শাস্তি এক বিষয় নয়। আত্মরক্ষার অধিকার প্রযোজ্য আইন ও পরিস্থিতির আলোকে বিবেচিত হয়।অন্যদিকে,কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা, অপরাধের দায় নির্ধারণ করা এবং শাস্তি প্রদান করা আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। সুতরাং,অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা,আনুপাতিকতা,জবাবদিহি ও মানবাধিকারের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের বিষয়ে মন্তব্য নিয়েও ব্যাখ্যা একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির মন্তব্য নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। পুলিশ কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে,আইজিপি সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি। বিষয়টি অসাবধানতাবশত হয়েছে বলে ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালন,তথ্য সংগ্রহ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ।একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের মধ্যে পেশাদার সম্পর্ক,পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জবাবদিহিমূলক যোগাযোগ জনস্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি কেন সংবেদনশীল? বাংলাদেশের জনপরিসরে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ও বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত। ফলে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করা হলেও তা জনমনে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি,তেমনি প্রত্যেক ব্যক্তির জীবন,মানবাধিকার এবং আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে এ ধরনের সংবেদনশীল শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বক্তব্যের প্রেক্ষাপট,সুনির্দিষ্ট অর্থ এবং জনসাধারণের কাছে তার সম্ভাব্য ব্যাখ্যা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ব্যাখ্যায় আইজিপির বক্তব্যের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।তবে বক্তব্যের প্রকৃত তাৎপর্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর মূল বক্তব্য ও সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের অঙ্গীকার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের বক্তব্যের শেষাংশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সার্বিকভাবে, ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ব্যাখ্যা আইন প্রয়োগে পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা।তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষা,আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে দায়িত্বশীল সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব বহন করে। সম্পাদনা-সংক্রান্ত সতর্কতা: প্রতিবেদনটি আপনার সরবরাহ করা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি। এখানে পুলিশের দেওয়া তথ্যকে পুলিশের বক্তব্য হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে; স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে নয়